জলসেচনঃ এ গাছগুলো কিছুটা শুকিয়ে যেতে পছন্দ করে তবে লক্ষ্য রাখবেন এটি যেন পুরোপুরি শুকিয়ে না যায়। কারণ এটি খুব বেশি শুকিয়ে গেলে পাতা এবং ডালগুলি মরে যেতে পারে। এই গাছগুলোতে সাপ্তাহে একবার পানি দিতে হবে। যেহেতু গাছটি নারিকেলের ছোবায় লাগানো তাই এতে মোটেও পানি জমে থাকতে পারবে না। সেই কারণে পানি দেয়ার সময় নারিকেলের ছোবা ও গাছটিকে ভালো ভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে। 

আলোঃ ডিসকিডিয়া ফিল্টার করা সূর্যের আলো বা উজ্জ্বল পরোক্ষ আলো পছন্দ করে। এই গাছটি এমন জায়গায় রাখুন যেখানে সরাসরি সূর্যের আলো আসে না। আমি গাছটাকে বারান্দার ভিতর পাশে রেখেছি। আমার বারান্দাটা পশ্চিম মুখো বলে বিকেলে ১-১.৫ ঘন্টা এটি সামান্য সূর্যালোক পায়। সকালের ১-২ ঘন্টা রোদ ও এক জন্য ঠিক আছে তবে এর চেয়ে বেশি রোদ গাছের জন্য ক্ষতিকর হবে। 

সার দেয়াঃ এই গাছগুলোতে আপনি ৩-৪ মাস পর পর তরল সার স্প্রে করে দিতে পারেন। ভাল ফলাফলের জন্য মাসে একবার করে সমপরিমান ইউরিয়া, টিএসপি ও এমপি সার একত্রে মিশিয়ে হাফ চা চামচ সার হাফ লিটার পানিতে মিশিয়ে ভালো ভাবে সমস্ত গাছে স্প্রে করে দিন। 

বংশবৃদ্ধিঃ গ্রীনলিফের বংশবৃদ্ধি করা খুব সহজ। সুস্থ পরিপক্ব কান্ড ৪-৫ ইঞ্চি লম্বা করে কেটে নিতে হবে। কাটার সময় লক্ষ রাখতে হবে পাতার গোড়ায় যেন শিকড় থাকে। এখন গোড়ার দিকের দুটি পাতা ফেলে দিয়ে ডালটি নারিকেলের ছোবায় বসিয়ে সুতা দিয়ে বেধে দিতে হবে। এবং ছোট একটি টবে প্রতিস্থাপন করে টবটি ছায়াযুক্ত স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে হবে আর নিয়মিত পানি দিতে হবে। দুই সপ্তাহের মধ্যে শিকড় গজিয়ে নতুন শাখা বের হবে। গাছটা একটু বড় হলে আলাদা টবে প্রতিস্থাপন করে দিতে হবে। এভাবে খুব সহজেই একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে তিনটি, তিনটি থেকে চারটি ও চারটি থেকে অসংখ্য চারাগাছ উৎপাদন করতে পারবেন। 

রোগবালাইঃ গ্রীনলিফে পোকামাকড়ের আক্রমণ খুব কম হয়। এই গাছগুলো আমি চার বছরেরও বেশি সময় ধরে লালন করছি। এর মাঝে মাত্র একবার কিছু পাতায় ছত্রাকের আক্রমণ হয়েছিল। তখন আমি হাফ লিটার পানিতে এক চা চামচের চার ভাগের এক ভাগ পরিমাণ ছত্রাকনাশক গুলিয়ে স্প্রে করে দিয়েছিলাম। কয়েকদিনের মাঝে এটা সেরে গেছে। 

ছাটাইঃ গাছগুলো যদি বেশি লম্বা হয়ে যায় তাহলে কান্ড ছেটে দিতে পারেন। কাটা অংশ থেকে কিছু দিনের মধ্যে নতুন শাখা বের হবে।

বি. দ্র. ভালো লাগলে পোস্টটি শেয়ার করতে পারেন তবে কপি করা থেকে বিরত থাকুন। ধন্যবাদ।