করোনা ভাইরাসের কোন চিকিৎসা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি ঠিকই; তবে আমাদের মুসলিমদের জন্য কিছু করনীয় নিয়ে নিম্নে আলোকপাত করার চেষ্টা করছি,
.
● প্রতি আধা ঘন্টা অন্তর ১ গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করুন। সাধারণ পানির পাশাপাশি বাসায় যদি জমজমের পানি থাকে সেটাও খেতে পারেন। অন্য পানির সাথে জমজমের পানি মিশিয়েও খেতে পারেন। জমজমের পানির বরকত সম্পর্কে আশা করি সবাই অবগত আছেন।

নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘জমজমের পানি বরকতময়, স্বাদ অন্বেষণকারীর খাদ্য।’ (সহিহ মুসলিম, ২৪৭৩)

সুস্থতার নিয়্যতেও জমজমের পানি পান করলে আরোগ্য লাভ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'যমযমের পানি যে উদ্দেশ্য নিয়ে পান করা হবে তা পূরণ হবে'। (মুনসাদে আহমদ)
.
জম জমের পানি দাড়িয়ে এবং তিন শ্বাসে পান করা সুন্নাহ। পান করার সময় নিম্নের দোয়াটি পাঠ করা,

اللَّهُمَّ إِنِّى أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا, وَرِزْقًا وَاسِعًا, وَشِفَاءً مِنْ كُلِّ دَاءٍ.
(حديث ضعيف/ رواه الدارقطنى وعبد الرزاق والحاكم عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا مَوْقُوْفًا)

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আস’আলুকা ইলমান নাফি’আ, ওয়ারিজকান ওয়াসিয়া, ওয়াশিফা’আন মিন কুল্লি দা।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট কল্যাণকর জ্ঞান, প্রশস্থ রিযিক এবং যাবতীয় রোগ থেকে আরোগ্য কামনা করিতেছি। (দারা কুতনী, আব্দুর রাজ্জাক ও হাকেম, বর্ণনায় ইবেনে আব্বাস)
.
● লেবু খাবার অভ্যাস করুন। প্রতিদিন ২ ঘন্টা অন্তর অন্তর এক গ্লাস করে লেবু পানি খেতে পারেন।
.
● কালোজিরা খাবার অভ্যাস করুন। কালোজিরা একটু চুলায় টেলে তা ঠান্ডা করে গুড়া করে সংরক্ষণ করতে পারেন। নিয়মিত এই কালোজিরা গুড়া আপনি পানির সাথে গুলিয়ে খেতে পারেন। ভর্তা বানিয়েও খেতে পারেন কালোজিরা। মৃত্যু ছাড়া সমস্ত রোগের মহাঔষধ কালোজিরা। (সহীহ বুখারী, ৫২৮৫)
.
● মধু খাওয়ার অভ্যাস করুন। ভালো মানের মধু কিনে ঘরে সংরক্ষণ করুন। প্রতিদিন সকালে হালকা গরম পানিতে মধু গুলিয়ে খেতে পারেন, এছাড়া এক চামচ করে রাতে শোবার আগেও খেতে পারেন।
.
মধুতে রয়েছে নানান রোগের প্রতিকার। যা আমাদের আল্লাহ বলেছেন কুর'আনে। (আন-নাহল, ৬৮-৬৯)
.
আমাদের নবীজির কাছে মধু খুব প্রিয় ছিলো। (সহীহ বুখারি, ৫২৫০)
.
এছাড়া, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন সকালে মধু চেটে খাবে, তার বড় ধরনের কোনো রোগ হবে না।’ (ইবনে মাজাহ, ৩৪৪১)
.
পেটের সমস্যার জন্য মধুর তুলনা নেই। একজন সাহাবী পেটের সমস্যার জন্য করনীয় কি তা জানার জন্য নবীজির কাছে এলে নবীজি তাকে বারংবার মধু খেতে নির্দেশ দেন। (সহীহ বুখারি, ৫২৮২)
.
● ত্বীন ফল খেতে পারেন। ত্বীন ফল যদিও একটু দামি তবুও আসল ত্বীন ফল অনেক অনলাইন দ্বীনি ভাইয়েরা বিক্রি করছেন তাদের থেকে কিনে নিতে পারেন। ত্বীন ফলকে আল্লাহ বরকতময় ফল বলে উল্লেখ করেছেন আল কুর'আনে। (সুরা ত্বীন, ১)
.
● বাসায় জয়তুনের তেল ব্যবহারের চেষ্টা করুন। নিয়মিত খাবারে জয়তুনের তেল খান। জয়তুনের উপকার সম্পর্কে জানতে গুগলে সার্চ করে দেখতে পারেন। বর্তমানে আমাদের যত রকমের স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো রয়েছে তার জন্য অন্যতম দায়ী আমাদের প্রতিদিনের এই সয়াবিন তেল; যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ঝুকিপূর্ণ। জয়তুনের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন আল কুর'আনে। (সুরা ত্বীন, ১)
.
রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা (জয়তুনের) তেল খাও এবং তা শরীরে মালিশ করো। কেননা এটি বরকত ও প্রাচুর্যময় গাছের তেল। (তিরমিজি, ১৮৫১)
.
● আজওয়া খেজুর বাসায় এনে রাখুন। চেষ্টা করুন আজওয়া খেজুর খাবার জন্য। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি প্রত্যাহ সকালে সাতটি আজওয়া (উৎকৃষ্ট) খেজুর খাবে, সেদিন তাকে কোন বিষ ও যাদু ক্ষতি করবে না এর দ্বারা। (সহীহ বুখারী, ৫৩৫৬)
.
সম্প্রতি খ্রিস্টানদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বির্তকমূলক সভায় খ্রিস্টানরা বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার শাইখ আসরার রাশীদকে বলেছিল, 'আপনাদের নবী তো বলেছে আজওয়া খেজুর খেয়ে বিষ খেলেও বিষ কাজ করবে না। তো সেটা প্রমাণ করে দেখান।' খীস্টানদের এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে সবার সামনে দাড়িয়ে ইঁদুরের ঔষুধ বা বিষ পান করেছেন শাইখ আসরার কিন্তু তার কিছুই হয়নি। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। সুবাহানআল্লাহ! (ভিডিওটি আপনারা ইউটিউবে গেলেই পাবেন ইন শা আল্লাহ)
.
● এছাড়া হিসনুল মুসলিম এপসটি প্লে ষ্টোর থেকে ডাউনলোড করে নিন। অসংখ্য মাসনুন দুয়া জানতে পারবেন। সূরাহ নাস, ফালাক্ব, আয়াতুল কুরসী, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত মুখস্ত করে নিন। সূরা ফাতিহাকে বলা হয় সকল রোগের শিফা। নিয়মিত আমল করুন।
.
আমাদের মুসলিমদের সব থেকে বড় হাতিহার দু'আ। আমরা নিয়মিত আল্লাহ্‌র কাছে দুয়া করবো। ইয়াক্বিন রাখবো, ঈমানকে ঠুনকো হতে দিবো না যত যাইই হোক না কেনো, যেভাবেই যা হোকনা কেনো আমরা কখনো আমাদের ঈমানকে দূর্বল হতে দিবো না ইন শা আল্লাহ।
.
● পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার সর্বাত্তক চেষ্টা করবো। শুধু হাত না, পুরো বাহ্যিক অঙ্গগুলোকেই বার বার পরিস্কার রাখার চেষ্টা করবো। পবিত্রতাকে ঈমানের অঙ্গ বলা হয়েছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২২৩) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ইসলাম পরিচ্ছন্ন। সুতরাং তোমরা পরিচ্ছন্নতা অর্জন করো। নিশ্চয়ই জান্নাতে কেবল পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিই প্রবেশ করবে।’ (ফাইজুল কাদির, হাদিস : ৩০৬৫) সুতরাং, একজন মুসলিমের সর্বদা পবিত্র থাকা জরুরী। আল্লাহ বলেন, ‘... আল্লাহ তোমাদের কষ্ট দিতে চান না; বরং তোমাদের পবিত্র করতে চান এবং তোমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করতে চান। যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৬)
.
হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় কনুই, টিস্যু কিংবা রুমাল দিয়ে মুখ ঢেকে রাখবেন। রাসূল (সা.) যখন হাঁচি দিতেন, তখন তিনি নিজ হাত অথবা কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে নিতেন এবং শব্দ কম করতেন। (আবু দাউদ, ৫০২৯)
.
ওযু করার সময় ভালোভাবে অঙ্গগুলোকে ধোয়ার অভ্যাস করবেন। সময় নিয়ে গোসল করার সময় মাথার চুল, শরীরের পুরো অঙ্গ ভালোভাবে পরিস্কার করার অভ্যাস করবেন। হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে, হ্যান্ড ওয়াশ/ সাবান দিয়েও হাত ধোয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে।
.
সূস্থ অসুস্থ সবাইকেই ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে। নিজের ইবাদতটুকু সবটুকু ঘরে বসেই করা যেতে পারে। একদমই ঘর থেকে না বের হবার চেষ্টা করবেন। অতি আবেগী হবেন না। পরিবারের সবার সাথে দ্বীনি আলোচনা করুন। সবাই এখন ভীত — এই সুযোগে পরিবারের সবার সাথে ইসলামী আলোচনা করুন। মুসাফাহ করা থেকে আপাততঃ বিরত থাকুন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সবার সাথে কথা বলুন।
.
আশা করি পোষ্টটি সবার জন্য কাজে লাগবে। উপরের নির্দেশনাবলীগুলো মানলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। তবে একটি কথা, এত কিছু মানার পরেও যদি আপনি মনে করেন আপনাকে করোনা ভাইরাস এট্যাক করবে না এটা ভুল। কেননা, আল্লাহ যাকে চান তাকে তিনি এই রোগ দিতে পারেন। আমাদের সবাইকেই দেখা যায় এডিস মশা কামড় দেয় কিন্তু ক'জনের ডেঙ্গু জ্বর হয়? আল্লাহ যাকে চান তাকেই ওষুখ দেন, আবার তিনি যাকে চান তাকেই সুস্থ করেন।
.
অনেককে দেখা যাচ্ছে এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে খাবার মজুদ করে ঘরে রাখছে। মনে করছে ঘরে সব কিছু এনে রাখলে মৃত্যু আর তাদের পাকড়াও করবে না। পূর্বেও বহু সম্প্রদায় পৃথিবীতে ছিলো যারা মনে করতো তাদের মৃত্যু পাকড়াও করবে না। যারা অনেক উচু উচু পাহাড়ে অনেক বড় বড় অট্টালিকা নির্মান করতো আর মনে করতো হয়তো তাদের মৃত্যু পাকড়াও করবে না। আমাদের অবস্থাটাও হয়তো দিন দিন ঐ দিকে চলে যাচ্ছে, মনে হচ্ছে চাল, ডাল, তেল... ইত্যাদি মজুদ করে রেখে দিলাম আর মৃত্যু মনে হয় আর ছুতে পারবে না আমাদের!!
.
কিন্তু আল্লাহ কি বলেন তা কি আমাদের জানা আছে? শেষ করছি সেই আয়াতটি দিয়েই, 'তোমরা যেখানেই থাক না কেন মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, এমনকি সুউচ্চ সুদৃঢ় অবস্থান করলেও'। (আন নিসা, ৭৮)
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
.
.
শেয়ার করুন, বন্ধুদের সাথে ইন শা আল্লাহ !