আমার বাগানের ভিডিওগুলো যারা নিয়মিত দেখেন তাঁরা নিশ্চয় এই গাছটা অনেক বার দেখেছেন। এই গাছ সম্পর্কে অনেকে জানতেও চেয়েছেন। এই গাছটা সাধারণত গ্রীন লিফ নামেই বেশি পরিচিত। এর আরো একটি নাম হচ্ছে ডিসকিডিয়া নুম্মুলারিয়া (Dischidia Nummularia). এর পাতাগুলো পুরু ও দেখতে মুদ্রার মত লাগে বলে এটি স্ট্রিং অফ নিকেলস (String of Nickels) নামেও পরিচিত। 

এটি শক্ত, টেকসই এবং অল্প যত্নেই ভেড়ে উঠে। বাড়ি, অফিস বা অ্যাপার্টমেন্টের জন্য এটি দুর্দান্ত। আপনার বাড়ির অন্দর বা বাহিরকে প্রকৃতির স্পর্শে সাজাতে এটি অনায়াসে ঝুলিয়ে রাখতে পারেন। এটি আপনার ঘরের বায়ুকে ফিল্টার করে টক্সিন মুক্ত করে এবং বিশুদ্ধ অক্সিজেন সরবরাহ করে। আজকে আমি এই গাছটা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করতে চেষ্টা করবো তাহলে চলুন শুরু করা যাক। 

 

আমরা বাড়িতে সাধারণত যে গাছগুলো লাগিয়ে থাকি সেই গাছগুলোর তুলনায় গ্রীন লিফ পৃথক তাই এটি যত্ন নেয়ার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানার প্রয়োজন। এমনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস আজকে বর্ণনা করবো যাতে আপনি সহজেই এটি চাষ করতে পারেন। 

 

টব নির্বাচনঃ এই গাছগুলি এপিফাইটস, যার অর্থ তারা প্রকৃতিতে অন্য গাছের উপর বেড়ে ওঠে। প্রাকৃতিক ভাবে গ্রীন লিফ ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড এবং এর আশেপাশের অঞ্চলগুলিতে গাছের শাখায় বেড়ে উঠে। অর্থাৎ অর্কিডের মত এগুলোও পরগাছা উদ্ভিদ। বাসা বাড়িতে, এগুলি সাধারণত ঝুলন্ত টবে জন্মে। এগুলোর জন্য টব নির্বাচনের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে টবে পানি নিষ্কাশনের জন্য যেন অনেকগুলো ছিদ্র থাকে। কারণ এগাছে কোন ভাবেই পানি জমে থাকতে পারবে না। 

 

পটিং মিক্সঃ এ গাছগুলো কখনই সাধারণ পোটিং মিক্সে লাগানো উচিত নয়। অর্কিডের মতোই এগুলোকে শুকানো পোটিং মিশ্রণে লাগাতে হয়। অর্থাৎ এর জন্য এমন পোটিং মিক্স লাগবে যা আদ্রর্তা ধরে রাখবে কিন্তু অতিরিক্ত জল ধরে রাখবে না। আমি গ্রীণ লিফের পোটিং মিক্স হিসেব শুরু মাত্র নারিকেলের ছোবা ব্যবহার করেছি। নারিকেলের ছোবা কুঁচি কুঁচি করে কেটে নিতে হবে। একই ছোবা ১-২ বছর অনায়াসে ব্যবহার করা যায়। ছোবাগুলো যদি বেশি পঁচে যায় তাহলে এগুলো পরিবর্তন করে দিতে হবে। কেননা তখন শিকড়গুলি তাদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারবে না এবং আপনার গাছটি মারা যাবে।